‘অভিমান’ মুক্তিতে দেশপ্রেমের প্রতিযোগিতা নেই

ভারতীয় সিনেমা ‘অভিমান’ মুক্তি পাচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর। এর আগে ‘কেলোর কীর্তি’র মুক্তির সময় দেশপ্রেম দেখানোর প্রতিযোগিতায় নামতে দেখেছিলাম সবাইকে।কিন্তু এখন সবাই নিশ্চুপ। কারণগুলো হলো—

১. মুক্তির সময় সবার আগে দেখলাম “জাজ মাল্টিমিডিয়ার” হস্তক্ষেপ। “কেলোর কীর্তি”কে হল দেব না— হেনতেন। কিন্তু ভেঙ্কটেশ তাদের নিজেদের দাপটেই বাংলাদেশে ছবিটা চালিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এই ঘটনার কয়েকদিন আগে যখন তারাই “বেপরোয়া”র ডিস্ট্রিবিউশন করলো এবং “কৃষ্ণপক্ষকে” ধরা খাইয়ে দিল তখন তাদের যুক্তি ছিল ‘হল মালিক ডিমান্ড’। এভাবেই ভেঙ্কটেশ ঠেকানোর জন্য মেলোড্রামার আয়োজন করলো জাজ।

২. “টাইগার মিডিয়া” যারা জাজের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের আর কিছু না থাকুক একটা পোর্টাল আছে-ঢালিউড ২৪.কম। নিজেরা যুক্ত থাকলে সেটা ভাল ছবি আর না থাকলে সেটা খারাপ, এভাবেই চলছে তাদের সংবাদ লেখা।তার উপর যৌথ প্রযোজনা আর আমদানি নিয়েও এলার্জি আছে প্রচুর। তবে এবার “অভিমান” নিয়ে মোটামুটি নিশ্চুপ। কারণ বিনিময়ে যাচ্ছে তাদের ছবি “সম্রাট” যা চলছে “মফস্বলের” ৩টি হলে। এই ঘোল খেয়েই তারা খুশি।

৩. আরেকটি পক্ষ হল “শিল্পী সমিতি”। তাদের রুটিন ওয়ার্ক হলো নির্বাচনের আগে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাস্তায় নামা আর বাকি টাইম নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো।এই নির্বাচনের একজন প্রার্থী আবার দুই-চারটা পোস্টার ছিড়ে জাতীয় বীরও হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারাও সাইলেন্ট। কারণ আছে বস। বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক জাজের কমন শিল্পী হয়ে গেছেন। তাদের রাস্তায় নামা থেকে ফেসবুক লাইভে আসা পর্যন্ত কন্ট্রোল করে জাজ। আর এই সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদক মহোদয় দুইজনের নাম যদি অশ্লীল যুগের ধর-মার টাইটেলের ছবির নিচে কমন হিসেবে খুঁজে পান তাহলে কিন্তু আমি দায়ী নই। অশ্লীল যুগের দুই মহানায়ককে শিল্পী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বানানোর পরও যদি এই সমিতি থেকে কিছু আশা করি সেটা বোকামী। নিদেনপক্ষে একটা বিবৃতি দিতেও তারা অক্ষম।

আসল কথায় আসি।এই পুরো বিষয়টা নিয়ন্ত্রন করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। ‘অভিমান’ আমদানি হতে ডিস্ট্রিবিউশন পর্যন্ত হচ্ছে নামে বা বেনামে কিন্তু তাদের তত্ত্বাবধানে। আর টাইগার মিডিয়ার ছবি পাঠিয়ে ছোটবাচ্চাকে লজেন্স খাওয়ানোর মতো চুপ বানিয়ে রেখেছে। তাই “ঢালিউড২৪”এর রিপোর্টারকে অভিমান ইস্যুতে মেসেজ দিলে রিপ্লাই আসে- মানুষ যা খাবে হলেতো তাই চলবে। “জাজ” ছবি করতো “এসকে”র সাথে। এসকের কলকাতায় ছবি ব্যবসায় কোণঠাসা হওয়ার পর তারা বাংলাদেশে ঢুকে। এটা সবাই জানি। যেটা জানিনা সেটা হল “এসকে” ছিল কলকাতায় কালো টাকা সাদা করার মেশিন।

ইন্ডিয়ায় একটা প্রবাদ কমন- যদি কালো টাকা সাদা করতে চাও তবে সেটা ফিল্মে ঢালো। মোদ্দাকথা হল- সবার মনে যেই কমন প্রশ্নটা জাগে সেটা হলো এসকে এতো লস দিয়েও ছবি বানায় কেন? আসলে পয়সাতো এসকে ঢালে না। ঢালে কালো টাকার মালিকরা। সেফ একেতো সাদা টাকা হয়ে বের হতো তারপর মমতা ব্যানার্জীর “বাংলা ছবির লো ট্যাক্স” সুবিধা নিয়ে অল্প ট্যাক্সেই ঢুকে যেত সেই দুর্নীতিবাজদের পকেটে। কিন্তু মোদীর ৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের পুরো প্রক্রিয়ার কারণে কালো টাকার মালিকরা গুটিয়ে গেছে। আর তাই নতুন বছরে ফিল্মে ইনভেস্ট থেকে সরে গেছে এসকে।

আর সে জায়গায় জাজ পার্টনার বানাচ্ছে জিতকে। গ্রাসরুট কিংবা জিত ফ্যান ক্লাবের জোরে কলকাতায় কিছু টাকা ব্যাক করাতে পারলেও ছবির ইনভেস্টের ৬০%ও তুলতে পারে না সোজা কথায় একের পর এক ফ্লপ দিচ্ছে। তাই এখন তাদের পুরো টার্গেট বাংলাদেশ। আর এজেন্ট হিসেবে জাজতো আছেই। এসকের গুদামপচা “খোকাবাবু, খোকা ৪২০” বা টাটকা “বেপরোয়া, অভিমানে”  কোন সমস্যা নেই, সমস্যা খালি ভেঙ্কটেশের ছবিতে। জাজের কমন ভিলেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান। সভাপতি শাকিব খানতো শিকারি, নবাবের পর তাদের নিজের লোকই। আর তথ্যমন্ত্রীকে ছবির মালয়শিয়া প্রিমিয়ার পর্যন্ত উড়িয়ে নিতে পারলে এটা কোন ছাই। সব যেহেতু ম্যানেজ, দুই হাতে তালি দাও আর দলে দলে অভিমান দেখতে যাও।

মন্তব্য করুন।

One Comment

মন্তব্য করুন