‘রানা পাগলা’ অবোধ্য নয়, হাস্যকর

এক. রানা পাগলা জানালো, আগের রাতে পার্টিতে গায়িকা পড়শির সঙ্গে অনেক মাস্তি করছে। দর্শক দেখল তারা থাইল্যান্ডের লোকেশনে মুখ ভেংচি দিয়া গান করছে! এই না হলে পাগলা!

দুই. শামীম আহমেদ রনির ‘বসগিরি’র চেয়ে ‘রানা পাগলা’ বেটার। অন্তত একটা গল্প বলার চেষ্টা ছিল। গল্পের গতিও ছিল। সে চেষ্টাটা দ্বিতীয় সিনেমায় করলেন না ক্যান কে জানে? ‘বসগিরি’ পৌনে দুই ঘণ্টা দেখার পরও মনে হচ্ছিল এখনো মূল গল্পই শুরু হয় নাই। দুই সিনেমার একটা মাইনাস পয়েন্ট কমন— শাকিব খানের অতি অভিনয়। শাকিব মনে হয় আগে অনেক ন্যাচারাল ছিলেন। এখন নতুন নির্মাতা, আজগুবি কাহিনী, সংলাপ, প্রযুক্তি ও নায়িকাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়া তা হারাচ্ছেন। ‘রানা পাগলা’য় শাকিব চোখ টিপছেন দুইবার, ডিবি অফিসার একবার (উনি কি এ সিনেমার প্রযোজক?)। ডিবি অফিসার অনেক মাচো। কিন্তু চিত্রনাট্য তারে ঘোড়ার ডিম বানায়ে রাখছে।

তিন. রানা পাগলা’র গল্প কি আসলেই অবোধ্য? আমার মনে হয় নাই। তারপরও মুম্বাই সিনেমায় অভ্যস্ত দর্শক কেন বিরক্ত হইছে বা বুঝে নাই। এর কারণ হতে পারে— গল্পের গাথুনীতে সমস্যা। কনসেপ্ট আকারে সুন্দর। কিন্তু গল্প সাজাতে গিয়ে লেজে-গোবরে হয়ে গেছে। একটার পর একটা চমকে নির্মাতার মনোযোগ ছিল— দর্শক কানেক্ট করতে পারছে কিনা তা নিয়ে সচেতন ছিলেন না। এটা এত আহামরি গল্প না। অন্য দেশের বাণিজ্যিক সিনেমায় এমন টুইস্ট অহরহ ঘটে। সেটা দর্শক রসিয়ে রসিয়ে দেখে। সে রসটা ‘রানা পাগলা’য় ছিল না।

চমক রিয়েলিস্টিক হয় নাই। তারচেয়ে তারকাদের কতো কেতা-দুরস্ত দেখানো যায়— সে দিকে মনোযোগ ছিল। সবাইকে সুন্দর পোশাক ও মেকআপে দেখা গেছে। যেহেতু সিনেমা বোরিং— তাই এতে গুরৃত্ব দেওয়ার কিছু নাই।

একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলাম। রানা ডিবি পুলিশের কাছে আঁচলের গল্প বলল, ডিবি বিশ্বাসও করল। এক বা দেড়বছর আগে সিমি’র (তিশা) বাবা-মা হত্যার বিষয়টা তারা বেমালুম ভুলে গেলে। অথচ এটা হওয়ার কথা সারাদেশে তোলপাড় তোলার মতো ঘটনা। সে ঘটনা কিনা রানার বাবাকেই বর্ণনা করতে হলো। সিমির প্রেমিক হিসেবে তাকে কেউ চিনল না!!

এমন অসঙ্গতি বিভ্রান্ত করছে। এছাড়া মূল টুইস্ট ছিল— মিশা সওদাগরকে আঁচলের বাবা হিসেবে উপস্থাপন করা। এ খেলাটাই জমে নাই। সেটা জমলে দলা পাকানো গল্পের মেরিটটা বোঝা যেতো।

আজকাল আমরা গল্প বা সংলাপ বা উপস্থাপনার চমৎকারিত্ব কথা বাদ দিয়ে শুধু বাজেটের সমস্যা শুনি। একই কথা বলে দর্শকও তার পছন্দের নির্মাতা বা নায়কদের অযোগ্যতাকে আড়াল করেন। এ দায় দর্শকরা কেন নেন? একটা সিনেমায় অনেক ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু নির্মাতার যত্ম-আত্তি অনেক ঘাটতি পুষিয়ে দেয়। সেটা কোথায়? চেষ্টাগুলো তো চোখে পড়ে না।

ছোট একটা ছেলেমানুষী দৃশ্যের কথা বলি। আঁচল তার মামাকে রেস্টুরেন্টে জানাচ্ছে— রানাকে শায়েস্তা করার বুদ্ধি পেয়ে গেছে। পুরো রেস্টুরেন্ট খালি— তারপর ভাগনির ঠোটেঁর কাছে কান নিয়ে মামাকে কথাটা শুনতে হলো। তার মানে হলো পরিচালক দর্শকদের কথাটা শোনাতে চান না। সেটা এভাবে দেখানো আসলেই হাস্যকর। ‘হাস্যকর’ হওয়াকে যদি বিনোদন ধরেন— তবে তো সমস্যা!

চার. এ সিনেমায় চমৎকার দুটি গান আছে। ‘আমার মতন কে আছে বলো’ ও ‘উড়ছে ধুলো’। এর মধ্যে দ্বিতীয় শুনতে বেশি ভালো লাগে বাট একদম আগোছালো দৃশ্যায়ন। পড়শির সঙ্গে গানটার দৃশ্যায়নে আগা-মাথা নাই। এর উপ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে স্ক্রিনে থেকে থেকে কালো একটা বিন্দু দেখা যায়। আর বাংলা সিনেমার যে কোনো অশ্লীল গানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে আইটেম গানটির দৃশ্যায়ন!

পাঁচ. এমন দুর্বল সিনেমা নিয়ে সমালোচনা উঠার পর কেউ কেউ বলছেন– দর্শক এখনো এ গল্প বোঝার মতো ম্যাচিউর হয় নাই। যারা এমন কথা বলেন তাদের স্রেফ দুই কথা বলা যায়। বেকুব ও বাকোয়াজ অহঙ্কার!

মন্তব্য করুন।

মন্তব্য করুন