অজ্ঞাতনামাঃ লাশের গল্পে রাজনৈতিক সিনেমা

তৌকির আহমেদের “অজ্ঞা্তনামা” দেখতে দেখতে আরো দুটো লাশকেন্দ্রিক সিনেমার কথা মনে পড়লো। মোরশেদুল ইসলামের শর্টফিল্ম “চাকা” এবং শ্রীলঙ্কান নির্মাতা প্রশন্ন ভিতানাগে (Prasanna Vithanage)’র Purahanda Kaluwara (Death on a Full Moon Day)।

চাকাকে বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম পথিকৃৎ ধরা হয় (মোরশেদুল ইসলামের “আগামী”, তানভির মোকাম্মেল এর শর্টফিল্ম “হুলিয়া” এবং তারেক মাসুদের “নরসুন্দর” এর সাথে সাথে)। এটিও একটি নাম পরিচয়হীন (অজ্ঞাতনামা) লাশকে নিয়ে আবর্তিত হয়, যে লাশটি অতি আবশ্যকীয়ভাবেই ধর্ম-জাতের পরিচয়হীন। লাশটিকে তার গ্রামে পৌছানোর দায়িত্বে থাকা মুসলমান গারোয়ানের মধ্যে সেই নাম পরিচয়হীন ও ধর্মের পরিচয়হীন লাশের প্রতি যে মায়া তৈরি হয়, যে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয় সেটিই চলচ্চিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দেয়। সেলিম আল দীনের অসাধারণ একটি রচনা (কথানাট্য) থেকে বানানো এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইল ফলক। এর বদৌলতে আন্তর্জাতিক পরিসরে GRAND PRIX পুরস্কার প্রাপ্তিও একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলতে হবে। Continue reading

হলে আসেনি দর্শক, ইউটিউবে ঝড়

নানাদেশের সিনে হিস্ট্রি ঘাটলে দেখা যাবে— অনেক সিনেমাই আছে যা হলে দর্শক টানেনি। কিন্তু পরবর্তীতে টেলিভিশন বা অন্য মাধ্যমে দর্শক টেনেছে। তেমনটাই ঘটল তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’র ক্ষেত্রে। Continue reading

জানুয়ারিতে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

matir-projar-deshe-kingdom-of-clay

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বসছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এর ১৫ তম আসর। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে ১২ জানুয়ারিতে শুরু হয়ে উৎসবটি চলবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। Continue reading

ইতালিতে পুরস্কৃত ‘অজ্ঞাতনামা’

tokir-ahmed

তৌকীর আহমেদেরঅজ্ঞাতনামা’ ইতালির ত্রেন্তো শহরে অনুষ্ঠিত রিলিজিয়ন টুডে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। ১৫ অক্টোবর এ নির্মাতার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। Continue reading

অজ্ঞাতই থেকে গেল অজ্ঞাতনামা

%e0%a6%85%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be

‘অজ্ঞাতনামা’ ঢাকায় মেইনস্ট্রিম প্রদর্শনীতে খুব বেশী সাড়া ফেলতে পারেনি। অনেক হলে দুই তিন দিন চলার পর নামিয়ে ফেলে। অযুহাত ছিল একই সময়ে আয়নাবাজি মুক্তি পেয়েছিল। কিছু একটা বানিয়ে ফেললেই সিনেমা হয়না। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি বলে একটা পূর্ব ধারণা নিয়ে ছবিটা দেখতে বসেছিলাম। তা হলো কোন অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। তবুও তৌকির আহমেদের ছবি বলে আশ্বস্থ ছিলাম -ছবিটি নড়বড়ে হবেনা। ইমপ্রেস তো ইমপ্রেসই। এরা যে ব্যতিক্রম দেখাবেনা তারই প্রমাণ দিল অজ্ঞাতনামায়।
Continue reading

অস্কারে ‘অজ্ঞাতনামা’

Oggatonama-the-unnamed-film-by-toukir-ahmed-with-mosharraf-karim-impress-telefilm posterঅস্কার প্রতিযোগিতায় বিদেশি ভাষার ছবি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে মনোনীত হয়েছে তৌকীর আহমেদের ‘অজ্ঞাতনামা’। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটি গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায়। Continue reading

কসোভো উৎসবে সেরা তৌকীর

tokir-ahmed
অজ্ঞাতনামা’ ছবির জন্য কসোভোতে অনুষ্ঠিত ‘দ্য গডেস অন দ্য থ্রোন’ শিরোনামের চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালক হিসেবে পুরস্কার জিতলেন তৌকীর আহমেদContinue reading

“অজ্ঞাতনামা” কথা

Oggatonama-the-unnamed-film-by-toukir-ahmed-with-mosharraf-karim-impress-telefilm poster fazlur rahman babuসিনেমার পোস্টার খুব সাদামাটা, কিন্তু সেই পোস্টারের একটি জায়গায় কেন জানি নিজের দুষ্টু চোখটা স্থির হয়ে গেল। অজ্ঞাতনামা শব্দটার ইংরেজি Unnamed এর Un অক্ষরটি লাল রঙের করে দেয়া পোস্টারে। সিনেমা শুরুর আগেই মাথায় চিন্তা ঘুরতে লাগল- সিনেমাটা কি অপরাধের, অনিয়মের নাকি অস্তিত্ব সংকটের? এই কারণেই কি অ বা Un কে লাল করে দেয়া? সিনেমা শেষে বুঝলাম- গল্পটা আসলে সব কিছুরই। Continue reading

অজ্ঞাতনামা : বাস্তবসম্মত কেস স্টাডি

Oggatonama-the-unnamed-film-by-toukir-ahmed-with-mosharraf-karim-impress-telefilm poster BMDbভালো সিনেমা হরহামেশা মেলে না।ভালো গল্পের সিনেমাও হরহামেশাে মেলে না।’ভালো সিনেমা’ ও ‘ভালো গল্প’ পরিপূরক।অফট্র্যাকের সিনেমায় এ দুটো ভালো মেলে।বাণিজ্যিক সিনেমার গতিপথ অনেকটাই একঘেয়েমি অাজকাল তাই অফট্র্যাকের জন্য মুখিয়ে থাকে অনেক দর্শক।বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বাস্তবতায় অফট্র্যাক সিনেমার বাজার ভালো রকমই হতাশার।পৃষ্ঠপোষকতার অভাব অার দর্শকভেদে ‘নাটক, টেলিফিল্ম’ ব্যাখ্যা দেবার কৌশলে অবমূল্যায়নের পরিবেশ অাছে।এ পরিবেশেই নতুন অফট্র্যাক সিনেমা ‘অজ্ঞাতনামা’-র প্রসব হলো ঢালিউডে।

‘অজ্ঞাতনামা’ সিরিয়াস ঘরানার অফট্র্যাক ক্যাটাগরিতে বাস্তবসম্মত কেস স্টাডি।কেস স্টাডি বেজায় শক্ত কাজ।শক্ত কাজের চ্যালেন্জ সবাই নিতে পারে না অাবার যারা নেয় সহজে হাল ছাড়ে না।হাল না ছেড়েই বানানো হয়েছে সিনেমাটি।তৌকির অাহমেদ ‘কেস স্টাডি’ করেছেন তার সৃজনশীল স্টাইলে যেখানে দর্শকের কাছে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নির্মাতা হিশেবে অাস্থা অর্জন করেছেন।সিনেমাটি ৬৯ তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখা ‘মার্কসে দু’ ফিল্মে প্রিমিয়ার হয়।পাশাপাশি ইতালির ‘গালফ অব নেপলস ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল’ অর্জন করে জুরি মেনশন অ্যাওয়ার্ড।গুরুত্বপূর্ণ দুটি অান্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়ে দেশে মুক্তি পায় সিনেমাটি।

বাস্তব বিষয়ের উপরে সিনেমা নির্মাণ যারা করতেন তৌকির অাহমেদ তাঁদের স্টাইলকে ফলো করেন এটুকু তাঁর সিনেমার ভাষাতে পরিষ্কার।তাই ‘অজ্ঞাতনামা’ চোখের সামনে থাকা বাস্তবকে তুলে এনেছে কেস স্টাডি-র মাধ্যমে।সিনেমাটির স্টোরি টেলিং, মেকিং মেসেজ সবকিছুর মধ্যে এই ‘কেস স্টাডি’-টা সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে।একজন কুমোর তার হাঁড়িটাকে শৈল্পিক করে তোলার জন্য চাকার সাথে সম্পর্কের পাশাপাশি নিজের হাতটিকে তুলির মতো ব্যবহার করে তাই রংবেরং অাকার ধারণ করে।এভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।’অজ্ঞাতনামা’-র প্রক্রিয়াও এভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’কেস স্টাডি’-তে একটি বিষয়কে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গবেষণার অাকারে নিয়ে ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন হয়।’অজ্ঞাতনামা’-তে তাই হয়েছে।

অালোচনার সুবিধার্থে পয়েন্ট করে বিশ্লেষণের প্রয়োজন অাছে..

‘নামা’ প্রসঙ্গ
**********
‘নামা’ শব্দটি ব্যবহারিক দিক থেকে বিভিন্ন অর্থ তৈরি করে।প্রয়োগটি বৈচিত্র্যময়।যেমন ধরুন- ‘চুক্তিনামা, কাবিননামা, অামলনামা।’মধ্যযুগে ‘জঙ্গনামা’ নামে এক ধরনের সাহিত্য রচিত হতো
।এ শব্দাংশটি একটা ডকুমেন্ট হিশেবে ব্যবহৃত হয়।’অজ্ঞাতনামা’ শব্দটিতে আছে বাস্তবের ডকুমেন্টেশন।

বিষয় নির্বাচনে বাস্তবতা
*********************
সিনেমার বিষয় ‘মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানির অনিয়ম ও এর পরিণতি।’বিষয়টি সমসাময়িক এবং লং টার্ম বাস্তব।কারণ জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে না।যদিও বিদেশি জটিলতা হয়ে থাকে তবে তা সাময়িক।রপ্তানির সময়টি সম্পূর্ণ একটা মৌসুমকে ঘিরে থাকে।নিপূণ সেজন্য ‘middle east’ এ যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।এভাবে অারো অনেককে স্বপ্ন দেখায় দালাল।সিনেমায় এটা অাছে।

বাজার পদ্ধতি
************
যারা জনশক্তি রপ্তানিতে কাজ করে এদের বাজার পদ্ধতি বা market place নিম্নবিত্ত।এদের স্থানীয় নাম ‘দালাল।’নিম্নবিত্তকে টার্গেট করে তারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়।স্বপ্ন দেখানোর পদ্ধতিও সস্তা।কোনোরকমে যেতে পারলেই বিদেশি টাকা পাঠাবে বা জমাবে তারপর এককালীন সঞ্চয় নিয়ে দেশে ফিরবে।দেশে এসে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে এবং স্বনির্ভর হবে।’দালাল’ চরিত্রে সিনেমায় শহীদুজ্জামান সেলিম টার্গেট করে এভাবেই।দালালের লোভী মানসিকতায় জাল পাসপোর্ট দিয়ে একজনের জায়গায় অার একজনকে পাঠিয়ে স্বার্থ হাসিল করার বিষয়টি অারো বাস্তব।সেলিম এ কাজটি করার ফলেই ফজলুর রহমান বাবুর ছেলের জায়গায় বেওয়ারিশ লাশ এসে পড়ে।নিম্নবিত্তরা ভালো থাকতে চায় তাই সহজে টোপে পড়ে যায়।

Oggatonama-the-unnamed-film-by-toukir-ahmed-with-mosharraf-karim-impress-telefilm poster fazlur rahman babuসরেজমিন তদন্ত
***************
সরেজমিন তদন্তের বিষয়টি এ সিনেমার শক্তিশালী জায়গা।একটা মামলাকে যেমন দীর্ঘ পরিস্থিতিতে দেখানো হয় সেভাবেই সিনেমার রহস্যপর্ব দেখানো হয়েছে।রহস্য উদঘাটনে একটি লাশের খোঁজ করতে গিয়ে শতাব্দী ওয়াদুদ তার পুলিশ ফোর্সের সাহায্যে তদন্তটি করতে থাকেন।সরেজমিনে গিয়ে কার বাড়ি, কোথায় থাকে, কে পাঠিয়েছে বিদেশে, কোন ভিসায় পাঠিয়েছে, লাশ একজনের জায়গায় অার একজ ন কিভাবে এলো, কিভাবে সেটা নিয়ে হয়রানি হলো এসব পার্ট টু পার্ট দেখানো হয়েছে।সরেজমিনে সিনেমার নামের ক্ষেত্রে সার্থকতাটা ফুটে উঠেছে।

প্রশাসনিক জটিলতা
******************
প্রশাসন অনেক বড় সমস্যা বাংলাদেশে।কারণ, অনিয়ম রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভরপুর।যদিও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সিনেমায় প্রথমদিকে অ্যাকটিভ দেখানো হয়েছে যেটা হরহামেশা দেখা যায় না।পরে লাশের হদিস করতে গিয়ে পুরো সমস্যাটি ধরা পড়ে।বেওয়ারিশ লাশ কে গ্রহণ করবে সেটা প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ অাবার খাদ্য মন্ত্রণালয় বলে অন্য একটার কথা।এভাবে দায়িত্ব এড়ানো বা চাপানোর মতো সূক্ষ্ম প্রশাসনিক জটিলতা ঘটে।পুৃলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে ঝামেলার বিষয়টিও এর অাওতায় পড়ে।

বাস্তবসম্মত অভিনয়
******************

বাস্তবসম্মত অভিনয়ই সিনেমাটির প্রাণ।সব চরিত্রই নিজেদের জায়গায় নিজেদের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে।’দালাল’ শহীদুজ্জামান সেলিম নিম্নবিত্তকে স্বপ্ন দেখানো বা প্রশাসেনর কাছে নিজেকে জনগণের সেবক হিশেবে তুলে ধরতে গিয়ে অাইনি জটিলতায় পড়ে যায়।নিজের ক্ষতি দালালরা চায় না তাই অার ‘ফকিরের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়া নিম্নবিত্তের জন্য কাজ করবে না বলে জানায়।সন্তানহারা ফজলুর রহমান বাবু সিনেমার মানবিক অংশ।তদন্তে অাসা ওসির সামনে কথা বলার সময় তার এক্সপ্রেশন বাস্তবকেও হার মানায়।সেলিম যখন শিখিয়ে দেয় লাশ গ্রহণের সময় কাস্টমসে কি বলতে হবে সেটা না বলে সন্তানের কথাই বলে।সেলিম উত্তপ্ত হয়ে মারতে থাকে।তারপর ‘অাছির বাজান, অাছির বাজান’ বলে কাঁদতে থাকে জীবন্তভাবে।মোশাররফ করিম ওসির নির্দেশ মানা পুলিশের কর্মচারী হলেও মজা ও সিরিয়াসনেস দুটোই দেখায়।নিপূণের ঘরে সে তার প্রেমিক হয়ে অাসে যা দর্শককে হাসিয়েছে অাবার বাবুকে সেলিম যখন মারে রাস্তার মধ্যে মোশাররফ বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়।নিপূণ মধ্যপ্রাচ্যের স্বপ্ন দেখা মেয়ে যার স্বপ্নভঙ্গ দিয়ে সিনেমার বাস্তবসম্মত মেসেজ অাসে যে ভুল পথে স্বপ্ন দেখার ফল খারাপ হয়।অভিনয়টা চমৎকার।শাহেদ অালি সন্তানহারা বাবুকে সান্ত্বনা দেয়া মানবিক চরিত্র, তার বডি ল্যাংগুয়েজে সেটার ভিন্ন টাচি অবস্থা ফুটে ওঠে।শতাব্দী ওয়াদুদ ওসির পদে নিজের মেজাজি অভিনয়ে অসাধারণ।তদন্তে তার তৎপরতা প্রশসংনীয়।জুঁই স্বামী শোকে পাথরমূর্তিতে অনবদ্য কিংবা মা মোমেনা চৌধুরী অাহাজারিতে অসাধারণ।অাবুল হায়াত হঠাৎ ছেলে হারানোর খবর শুনে পড়ে যেতে থাকে একজনের ওপর।তখন মানতে হয় এটা বাস্তবের দৃশ্য।

অজ্ঞাতনামা নিয়ে আরও দেখুন

ক্যামেরার ভাষা
**************
ক্যামেরায় বাস্তব দৃশ্যগুলো আনতে পারে না সব নির্মাতা।এ সিনেমায় নৌকা, স্রোত, সূর্যাস্ত, গোধূলি, রাত, ভোর সব বাস্তবিক ছিল।খোঁচা খোঁচা দাড়ির বাবুর মেকাপ বাস্তবের মতোই হতাশার মধ্যে থাকা মানুষের অবয়ব তুলে ধরে।ক্লোজ ও লং শটের সমান উপস্থিতিতে চরিত্রগুলোর বডি ল্যাংগুয়েজ বাস্তবিক করা হয়েছে।শিশুশিল্পীর নৌকা বানানো এবং ভাসিয়ে দেয়ার মাধ্যমে বাবার জন্যে অপেক্ষাকে বোঝানো হয়েছে।বাবা গেছে নদী পেরিয়ে তাই নৌকাই তার ফিরে অাসার প্রতীক।

মানবিক উন্মোচন
****************
সিনেমাটির অাগাগোড়াই মানবিক দিককে কেন্দ্র করে বা লক্ষ্য করে এগিয়েছে।গান তার সবচেয়ে বড় নমুনা।’প্রতিদিন তোমায় অামি দেখি না মা/কতশত নামের ভিড়ে অামি অজ্ঞাতনামা।’ এখানে ‘অামি’-র মাধ্যমে নির্মাতার পাশাপাশি দর্শকও হিশেবটা মেলাতে পারবে।অজ্ঞাতনামা-র পরিচয়হীন বাস্তবটা যে কারো ক্ষেত্রে সমান।বাস্তব দেখেও না দেখার ভান করা অামরা সবাই নিজেদের কাছে অজ্ঞাতনামা।’ক্ষমা কইরা দিও বাজান/ ক্ষমা কইরা দিও/ কেমন কইরা তোমার দেহ/মাটি চাপা দেব।’ চূড়ান্ত মানবিক দিক এ গান।সন্তানহারা বাবার অার্তনাদে মধ্যপ্রাচ্য জনশক্তি বাণিজ্যে অাদম ব্যবসা ভয়াবহ এখানেই।

সিনেমা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত দেখানোর জিনিস।চোখের দেখা বলে যেটুকু থাকে পর্দায় তার একটা উপস্থিতি থাকে।’অজ্ঞাতনামা’-র পর্দা উপস্থিতি বাস্তবকে স্তরে স্তরে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের সম্পূর্ণ ঘটনাকে দেখানো কেস স্টাডি।এ স্টাডিতে শেষ পর্যন্ত দর্শকের লাভ হচ্ছে চোখের কোণে একফোঁটা পানি।এসময় একটা ঘটনাই ঘটে।অার তা হচ্ছে গলার রেখাটা শক্ত হয়ে অাসে।

কোথায় দেখবেন তৌকীরের ‘অজ্ঞাতনামা’

Oggatonama the unnamed film by toukir ahmed with mosharraf karim impress telefilm২০১৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখায় প্রদর্শিত এবং গাল্ফ অব নেপলস- ইন্ডিপেনডেন্ট চলচ্চিত্র উৎসবে পুরষ্কারপ্রাপ্ত তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে। Continue reading