চোখে ভাসে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’

hangor-nodi-grenedeমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্রের কথা বলা হলেই আমাদের মনে যে নামগুলো ভেসে ওঠে- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড তার মধ্যে নেই। ওরা ১১ জন, আলোর মিছিল, আগুনের পরশমনি; এ কালজয়ী ছবিগুলোর মাঝে কেন যেন হারিয়ে যায় ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। তা যাক, কিন্তু কখনও যদি জানতে ইচ্ছে করে সেই মায়ের কথা, যিনি দেশের জন্য সন্তানকে বিসর্জন দিতে পারেন, এ আত্মত্যাগ কতটুকু স্বার্থহীন হতে পারেন তাহলে দেখতে হবে ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। Continue reading

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ও গেরিলা

guerrila_0বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতার ইতিহাস নানান ভাবে নানান শিল্প মাধ্যমে উঠে এসেছে। কখনও কবিতায়, কখনও গানে, কখনও বা উপন্যাস, নাটক আবার কখনও চলচ্চিত্রে। শিল্প মাধ্যমের নানান শাখায় বিভিন্ন সময়ে ফুটে উঠেছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সবচেয়ে সহজ পন্থায় ও সহজবোধ্য ভাবে চলচ্চিত্র শিল্প মাধ্যমের সাহায্যে পৌছায় বলে আমার মনে হয়। বাংলাদেশের গুণী নির্মাতারা বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করেছেন, এখনও করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সবগুলো চলচ্চিত্র আমার দেখা হয়ে উঠেনি তবে অবশ্যই দেখব আশা করি। আমি এখানে একটি চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আমার ব্যক্তিগত ভালো লাগা থেকেই এই সিনেমাটা নিয়ে কিছু বলা, সিনেমাটি নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু নির্মিত গেরিলাContinue reading

এইতো প্রেম

পুরোহিতের মেয়ে মাধবী। তাকে ভালোবাসে একই গ্রামের স্কুলশিক্ষকের ছেলে সূর্য। মাধবীও একসময় সূর্যকে ভালোবেসে ফেলে। এরই মধ্যে একদিন গ্রামে ঢোকে পাকিস্তানি বাহিনী। এক দিকে দেশ বাঁচানোর যুদ্ধ, অন্য দিকে এক জোড়া মনের যুদ্ধ। পাকিস্তানি বাহিনী পুরোহিতকে হত্যা করে। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মাধবীকে রেখে ছেলেটি চলে যায় যুদ্ধ করতে। সে কি আর ফিরে আসবে?

মুক্তি

‘মুক্তি’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র কিসমত। মুক্তিযুদ্ধে বাবাকে হারায় সে। অসহায় মা কিসমতকে পাঠিয়ে দেয় এতিমখানায়। সেখানেই বেড়ে ওঠা। অবসরে বন্ধুদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনায় কিসমত। তার গল্পে ফুটে ওঠে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা দৃশ্য। কিসমতের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে শিশুরা শপথ নেয়, এ দেশে কখনও কোনো শত্রু আসতে দেবে না।

মাটির ময়না

ষাটের দশকের উত্তাল সময়ের প্রেক্ষাপট হতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের সময়ের একটি পরিবার কিভাবে যুদ্ধ ও ধর্মের কারণে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তার গল্প নিয়ে তৈরি এ চলচ্চিত্র। পরিচালকের নিজের ছোটবেলার কাহিনীর জীবনের উপর ভিত্তি করে এ ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছে। অত্যন্ত ধার্মিক বাবা কাজী সাহেব তাঁর ছোট্ট ছেলে আনুকে পড়াশোনার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন। দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি আনুর মাদ্রাসাতেও চরম ও মধ্যপন্থী মতবাদের বিকাশ ঘটতে থাকে। বিভক্তির এই একই চিত্র দেখা যায় গোঁড়া ধার্মিক কাজী ও তাঁর স্বাধীনচেতা স্ত্রী আয়েশার মধ্যে । ধর্মীয় উদারতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং ইসলামের দুর্বোধ্যতা এ সব কিছু মিলিয়ে মাটির ময়না জাগতিক দ্বন্দ্বের একটি দৃশ্যমান প্রতিকৃতি। Matir Moyna

জয়যাত্রা

১৯৭১- এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ। যুদ্ধের বিভিষিকা যখন ছড়িয়ে পড়েছে লাংলার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। হাজার বছরের শ্বাষত বাংলা মুহুর্তেই পরিনত হয় বিরাণ শ্বশানে। প্রানভয়ে পলায়নয়ত একদল সাধারন মানুশ আশ্রয় নেয় একটি নৌকায়। তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই এগিয়ে যায় গল্প, কিন্তু শুধু বেঁচে থাকা নয় ক্রমেই রুখে দাঁড়াবার স্পৃহা জাগ্রত হয় তাদের হৃদয়ে। জয়যাত্রা – একদল মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দঃখ, ব্যথা মৃত্যু ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। Joy Jatra

কারিগর

একাত্তরে বরিশালের এক গ্রামে পাকবাহিনী হিন্দু নিধন করতে এসেছে। গ্রামের হাজাম (খাৎনাকারী) তাদের কাছে গিয়ে বলে– এখানে কোনো হিন্দু নাই। যারা ছিল তাদের মুসলমান করেছে তার বাবা আর সে নিজে। কারিগর এই কথাটা মাথায় পবিত্র কোর-আন শরীফ নিয়ে বলে। পাকবাহিনী তাঁর কথা বিশ্বাস করে। গ্রামে সেদিন গণহত্যা না করে ফিরে যায়। একটি জনপদের মানুষ প্রাণে বেঁচে যায় একটি মিথ্যে কথা বলার কারণে।
যাওয়ার সময় বলে যায়–তারা যাদের মুসলমান করেছে খাৎনা করে–তাদের তালিকা বানাও। কারিগর স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে ঐ গ্রামের এবং আশেপাশের গ্রামের হিন্দুদের তালিকা বানাতে শুরু করে। হিন্দু নামের সঙ্গে নতুন মুসলমান নাম বসাতে থাকে। এর মধ্যে দেশ স্বাধীন হয়ে যায়। পরে কট্টরপন্থী হিন্দু এবং মুসলমান দুসম্প্রদায়ের মানুষই কারিগরকে মিথ্যে বলার কারণে একঘরে করে।

আগুনের পরশমনি

১৯৭১ সালের অবরুদ্ধ পরিবেশে বাস করে সরকারি কর্মকর্তা আবদুল মতিন তার স্ত্রী, দুই কন্যাকে নিয়ে। হঠাৎ একদিন এই পরিবারে আশ্রয় গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম। গোপনে সে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে অপারেশনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বদি ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি সফল অপারেশন পরিচালনা করে। একদিন অপারেশন করতে গিয়ে সে মারাত্মক আহত হয়ে ফেরত আসে