বেলাল আহমেদ

বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতার নাম বেলাল আহমেদ। নয়নের আলো চলচ্চিত্র পরিচালনা করে তিনি নিজেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি মোট নয়টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন, এর মধ্যে সর্বশেষ চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে উঠার ফলে ছোটবেলা থেকেই শিল্পচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন বেলাল আহমেদ। ছোটবেলায়ই চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান তিনি। বেশকটি প্রামাণ্যচিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন তিনি। ষাটের দশকের প্রথম দিকে ততকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে কাজী জহির পরিচালিত উর্দু ভাষার বন্ধনছবিতে কিশোর শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়াও তিনি রেডিও পাকিস্তান এবং ভয়েস অফ আমেরিকা এর প্রচারিত নাটকেও কণ্ঠ দিয়েছেন।

বেলাল আহমেদ ১৯৬৭ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক নজরুল ইসলামের সঙ্গে ‘স্বরলিপি’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এটি ১৯৭০ সালে মুক্তি পায়। স্বাধীনতাযুদ্ধের বেশ কয়েক বছর পর ১৯৭৬ সালে পূর্ণ পরিচালক হিসেবে ‘নাগরদোলা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এটি ১৯৭৯ সালে মুক্তির পর প্রশংসিত হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি প্রথম ‘নাগর দোলা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। তবে জাফর ইকবাল, কাজরী, সুবর্ণা মুস্তাফা ও প্রবীর মিত্রকে নিয়ে তার নির্মিত ‘নয়নের আলো’ ছবিটি তাকে রাতারাতি তারকা পরিচালকে পরিণত করে। এই ছবির আমার সারাদেহ খেও গো মাটি, আমার বুকের মধ্যিখানে কিংবা আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গানগুলো এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরে।

মৃত্যুর তিন দিন আগে থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন নির্মাতা বেলাল আহমেদ। আজ সোমবার সকালে ব্যথাটা বেড়ে যায়। এরপর তাঁকে হাতিরপুলের বাসা থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিত্সক। হাতিরপুলের বাসার কাছে জামে মসজিদে প্রথম নামাজে জানাজা এবং বিএফডিসিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তার মৃত্যুর বেশ কয়েকবছর আগেই তার সহধর্মিণী মারা যান। তার একমাত্র ছেলে লন্ডনে বসবাস করছেন।

সূত্র:
১. প্রথম আলো
২. বিডিনিউজ
৩. উইকিপিডিয়া
৪. মানবকন্ঠ
৫. যুগান্তর

 

ব্যক্তিগত তথ্যাবলি

পুরো নাম বেলাল আহমেদ
জন্ম তারিখ নভেম্বর ২৮, ১৯৪৮
মৃত্যু তারিখ আগস্ট ১৮, ২০১৪
জন্মস্থান জামালপুর।