জসিম

জসিমের পরিচয় (Jasim) একাধিক। তিনি একজন অভিনেতা, একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং একজন মারপিট পরিচালক। বাংলাদেশী অ্যাকশন সিনেমাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে জসিমের অবদান অনস্বীকার্য।

জসিম চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে। এই ছবিতে জসিম চলচ্চিত্র পরিচালকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হলেও মূল পরিচিতি পান দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের অভিনয় করে। ছবিটি অমিতাভ বচ্চন, আমজাদ খান অভিনীত হিন্দী সিনেমা ‘শোলে’র রিমেক। জসিম অভিনয় করেন আমজাদ খানের অভিনীত চরিত্রে। বলা হয়, এই চরিত্রটি করার জন্য জসিম প্রায় বিশ বার শোলে চলচ্চিত্রটি দেখেছিলেন। তার অভিনয় দেখে গব্বর সিং চরিত্রে রূপদানকারী আমজাদ খান প্রশংসা করেছিলেন বলে শোনা যায়।

দোস্ত দুশমন ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত জসিম পরে আরও কিছু ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। খলনায়ক চরিত্রে অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে রংবাজ, রাজ দুলারী, দোস্ত দুশমন, তুফান, জবাব, নাগ নাগিনী, বদলা, বারুদ, সুন্দরী, কসাই, লালু মাস্তান, নবাবজাদা, অভিযান, কালিয়া, বাংলার নায়ক, গরিবের ওস্তাদ, ভাইবোন, মেয়েরাও মানুষ প্রভৃতি। তার খলনায়ক অভিনয়ের সমাপ্তি ঘটে ‘সবুজ সাথী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নায়ক হিসেবেই অভিনয় চালিয়ে যান।

বাংলা সিনেমায় মারপিটকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য জসিমের অবদানকে অস্বীকার করা যায় না। বলা হয়, ঢাকার ছবিতে জসিমই প্রথম মারপিটের সূচনা করেন। চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখক লিয়াকত হোসেন খোকন বলেন, ‘জসিম যখন ফিল্মে যোগ দেন তখন থেকেই ঢাকায় হিন্দি ছবির কাহিনী চুরি করে ছবি নির্মাণের হিড়িক পড়ে গেল। জসিমকেও ওই সময় বেশ কিছু নকল ছবিতে অভিনয় করতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রতিভাগুণে জসিম একটা ভিন্ন স্টাইল সৃষ্টি করেছিলেন।’ জসিম-আরমান-মাহবুব এই তিনজন মিলে তৈরী করেছিলেন জেমস ফাইটিং গ্রুপ যারা চলচ্চিত্রের মারপিট পরিচালনা করতেন এবং স্টান্ট সরবরাহ করতেন।

অভিনেতা জসিম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও বটে। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে একজন সৈনিক হিসেবে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। দুই নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে লড়েছেন তিনি।

জসিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পর্যন্ত। তিনি অভিনেত্রী সূচরিতাকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রথম চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশের নায়িকা পূর্নিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন।  ১৯৯৮ সালে তিনি মস্তিস্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তার স্মরণে এফডিসির ২ নম্বার ফ্লোরের নামকরণ মুক্তিযোদ্ধা জসিম ফ্লোর করা হয় ।

 

ব্যক্তিগত তথ্যাবলি

পুরো নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন
ডাকনাম জসিম
জন্ম তারিখ আগস্ট ১৪, ১৯৫০
মৃত্যু তারিখ অক্টোবর ৮, ১৯৯৮
জন্মস্থান কেরানীগঞ্জের বক্সনগর গ্রামে