শহীদুল ইসলাম খোকন

শহীদুল ইসলাম খোকন (Shahidul Islam Khokon) বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের অন্যতম গুণী ও মেধাবী নির্মাতা। চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করলেও চলচ্চিত্র নির্মানেই তিনি তার সার্থকতা প্রমাণ করেছেন।

অভিনেতা প্রযোজক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার সহকারী হিসেবে খোকনের চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ দশ বছর তিনি সোহেল রানার সহকারী হিসেবে কাজ করেন। রক্তের বন্দী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে খোকন তার পরিচালনার অধ্যায় শুরু করেন। অবশ্য তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পদ্মগোখরা। তার পরিচালিত দুটি ছবিই ব্যর্থ হয়। এরপর সোহেল রানার ছোট ভাই রুবেলকে নিয়ে খোকন তৈরী করেন লড়াকু।  বাজিমাৎ করেন খোকন তার লড়াকু দিয়ে। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তাকে।

মার্শাল আর্ট ভিত্তিক এবং অ্যাকশন চলচ্চিত্র নির্মান করে খোকন বাংলা চলচ্চিত্রে অনেক নতুন মুখ হাজির করেন। এদের মধ্যে ড্যানি সিডাক, সিরাজ পান্না, ইলিয়াস কোবরা, চিত্রনায়িকা মিশেলা, হুমায়ূন ফরিদী অন্যতম। সমাজের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং বিরোধী শক্তির অপচেষ্টাকে খোকন তার চলচ্চিত্রে তুলে ধরেছেন নানাভাবে।

১৯৯২ সালে উত্থান পতন চলচ্চিত্রে খোকন নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করলেও দর্শকপ্রিয়তা পান নি। পরবর্তীতে পরিচালনায় প্রতিষ্ঠা লাভ করলে আর অভিনয়ে ফিরে যাওয়া হয় নি তার। রাজধানী চলচ্চিত্রে তিনি সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন। শহিদুল ইসলাম সাচ্চু পরিচালিত মেগাবন্ড, সৌরজয় চৌধুরী পরিচালিত ‘অবশেষে নাটকে পরিণত হল’ নাটকে অভিনয় করেন।

২০০৭ সালে খোকন অনুরূপ আইচের রচনায় ‘এখনও মানুষ’ নামের একটি টেলিফিল্ম নির্মান করেন।  তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

শহীদুল ইসলাম খোকন বর্তমানে কন্ঠনালি ও জিহ্বার সমস্যায় ভুগছেন। এ কারণে তিনি ভালো করে কথা বলতে পারেন না, কথা জড়িয়ে যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে, স্বাধীনতা-বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘ঘাতক’, ‘রাক্ষস’, ‘লাল সবুজ’ এবং বাঙলা’র মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বারবার জীবনের ঝুঁকিতে পড়া শহীদুল ইসলাম খোকন অর্থের অভাবে সুচিকিৎসা করাতে পারেন নি। এ সময় তার আবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে আসেন এবং অর্থ সাহায্য প্রদান করেন। চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল ও অন্যান্য সহযোগীরাও তার পাশে এগিয়ে আসেন। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে খোকন ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে আমেরিকায় গমন করেন এবং সুস্থ্য না হয়েই দেশে ফিরেন। তারপর প্রায় দেড় বছর মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ২০১৬ সালের ৪ মে তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

খোকনের স্ত্রীর নাম জয় ইসলাম। তাদের তিনটি সন্তান।

 

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র

ব্যক্তিগত তথ্যাবলি

পুরো নাম শহীদুল ইসলাম খোকন
জন্ম তারিখ মে ১৫, ১৯৫৭
মৃত্যু তারিখ এপ্রিল ৪, ২০১৬
জন্মস্থান বোয়ালিয়া, ইমামকাঠি, বরিশাল।